ইউটিউব ভিউ বাড়ান

#1 Social Media Exchange Platform System in Bangladesh

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার

& ডিভাইস কি ?
ডিভাইস অর্থ কৌশল বা পরিকল্পনা। অর্থাৎ যে কৌশলে বা যে উপায়ে কম্পিউটার আমাদের দেয়া তথ্য সি.পি.ইউ তে গ্রহণ করে এবং অর্জিত ফলাফল প্রকাশ করে, সেই কৌশল বা উপায়কে ডিভাইস বলে। ডিভাইস সাধারণত দু’ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- (ক) ইনপুট ডিভাইস এবং (খ) আউটপুট ডিভাইস।

&  হার্ডওয়্যার (Hardware) কি?
(Hardware) হার্ডওয়্যার : কম্পিউটার সংগঠনের একটা বিরাট অংশ হলো এর হার্ডওয়্যার। আমরা কম্পিউটারের বাইরে যে পার্টস/যন্ত্রাংশ গুলো দেখে থাকি সেগুলোসহ ভেতরের যত পার্টস/যন্ত্রাংশ আছে সবই হার্ডওয়্যারের অন্তর্গত। অর্থাৎ এক কথায় যে সকল পার্টস/যন্ত্রাংশ পরিবর্তনযোগ্য বা হাত দ্বারা স্পর্শ করা যায় তাই-ই হলো হার্ডওয়্যার। যেমন: মাউস, কী-বোর্ড, মনিটর, সিপিইউ, কেসিং/সিস্টেম বক্স, মাদার বোর্ড, র‌্যাম, প্রসেসর, সিডি/ডিভিডি রোম, ফ্লোপি ড্রাইভ ইত্যাদি। আর মনে রাখবেন; সিস্টেম বক্সে সংরক্ষিত সকল হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশসমূহকে পরিচালনার জন্য উপযুক্ত সফ্টওয়্যার বা প্রোগ্রামসমগ্রীর প্রয়োজন হয়। হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যারের সম্মিলিত কার্যকলাপের মাধ্যমে কম্পিউটার কাজ করে থাকে। এদের একটি ছাড়া অন্যটি সম্পূর্ণ অচল কিছুই করতে পারে না। নিম্নে প্রয়োজনীয় কিছু হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশের  ছবি দেয়া হলো:
নিম্নে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ - ইনপুট ডিভাইস এবং আউটপুট ডিভাইস বা হার্ডওয়্যার সর্ম্পকে সংক্ষেপে আলাচনা করা হলো :

:  মনিটর :
মনিটর কম্পিউটারের অন্যতম আউটপুট ডিভাইস। ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারে নির্দেশনা প্রয়োগের ফলে সিপিইউ-তে তা প্রক্রিয়াজাত হয়ে ফলাফল প্রদর্শণন হয় মনিটরে। মনিটরে প্রদর্শিত আউটপুটকে Soft Output বলে এই Soft Output প্রয়োজনে সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যায়। বর্তমানে বাজারে দু’ধরনের মনিটরের প্রচলন সবচাইতে বেশী দেখা যায় যেমন:- CRT Monitor এবং LCD Momitor|
& ডিস্ক ড্রাইভ :
আমরা জানি ডিস্ক তথ্যাবলীর ভান্ডার। ডিস্কে যে মাধ্যমে তথ্যাবলী প্রবেশ করানো হয় তাকে ড্রাইভ বলে। অর্থাৎ একটি গুদামের দরজা দিয়ে যেমন মাল-পত্র ভিতরে প্রবেশ করানো হয় তেমনি ডিস্কের ক্ষেত্রে ড্রাইভ দরজার ন্যায় ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থাৎ বলা যায় ডিস্ক চালানোর জন্য যে ড্রাইভ ব্যবহার করা হয় উহাকে ডিস্ক ড্রাইভ বলে। ডিস্ক ড্রাইভ নিন্মোক্ত দুধরনের হয়ে থাকে। যেমন:-
ক) Hard Disk Drive (HDD)
খ) Floopy Disk Drive (FDD) (Floopy Disk প্রচলন বর্তমানে নাই বললেই চলে)।

ক) Hard Disk Drive (HDD): হার্ডডিস্ক ড্রাইভকে পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ড্রাইভকে হার্ডডিস্ক ড্রাইভ বলে। হার্ডডিস্ক ড্রাইভ যেহেতু Fixed থাকে System Unit এর মধ্যে তাই উহার ড্রাইভ ও অবস্থান System Unit এর মধ্যে।

খ) Floopy Disk Drive (FDD): Floopy Disk কে পরিচালনার জন্য যে ড্রাইভ ব্যবহৃত হয় তাকে Floopy Disk Drive বলে। System Unit এর সম্মুখে থাকে Floopy Disk Drive।

&  হার্ড ডিক্স কি?
তথ্য সংরক্ষনের জন্য সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত হার্ডডিস্ক। এটি স্থায়ী স্টোরেজ মিডিয়া হিসাবে কাজ করে। অপেক্ষাকৃত অধিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ শক্ত ম্যাগনেটিক ডিস্ককে হার্ড ডিক্স বলা হয়। মেগাবাইট থেকে শুরু করে গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্যের বিশাল ভান্ডার এই হার্ডডিস্কে জমা রাখা যায়। এই ডিস্ক আসলে হচ্ছে ম্যাগনেটিক ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তৈরী একটি গোলাকার চাকতি বিশেষ। হার্ডডিক্স ফ্লপি ডিস্ক অপেক্ষা অধিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ এবং টেকসই হয়। হার্ড ডিক্সে অনেক গুলি শক্ত ডিক্স একটি দন্ডে স্থায়ীভাবে পরপর সাজানো থাকে। প্রতিটি ডিক্সের উপর ও নিচে রিড/রাইট হেড থাকে এবং এরা ডিক্সের যে কোন ট্র্যাকে কাজ করতে পারে। পূর্বের তৈরীকৃত হাডডিক্সগুলির RPM (Rotation per minute) ছিল প্রতি মিনিটে ১০০ হতে ৩৬০০ বার। কিন্তু বর্তমানের  তৈরীকৃত হাডডিক্সগুলির ম্যাগনেটি ডিক্স এর RPM প্রতি মিনিটে ৫২০০ হতে ৭২০০ বার। জোরে ঘুর্ণায়নের সময় রিড বা রাইট হেড গুলি ডিক্সের উপর ভেসে থাকে ফলে ঘর্ণাায়নের জন্যে হেডের কোন ক্ষতি হয় না। অত্যন্ত দামি বলে এ ধরনের হার্ডডিক্সকে ধূলাবালি থেকে মুক্ত রাখার জন্য কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে সুরক্ষিত অবস্থায় স্থাপন করা হয়। বর্তমানে বাজারে কয়েক ধরনের হার্ডডিস্ক পাওয়া যায় যেমন: ATA/PATA Harddisk, SATA Harddisk এবং USB Harddisk|
চিত্র সহ হার্ডডিস্কের বিভিন্ন অংশ নিম্নে দেখানো হলো:-
& Hard Disk Partition
বিপুল তথ্য ধারণ ক্ষমতার অধিকারী হার্ডডিস্ককে ব্যবহারকারীর পছন্দ মতো বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে তথ্য সমূহ সুবিন্যস্তভাবে সংরক্ষণ করা যায়। তথ্য সমূহ সুশৃংখলভাবে সংরক্ষণের সুবিধার্থে হার্ড ডিক্স পার্টিশনের জন্যে যে, Software-গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে; তার মধ্যে DOS এর F-Disk Command এবং Partition Magic-এর ব্যবহার উল্লেখ্যযোগ্য

& হার্ড ডিস্ক পার্টিশন করার কারণ :
হার্ডডিস্ককে একাধিক ভাগে ভাগ করে তথ্য সমূহ সুশৃংখলভাবে সংরক্ষণের জন্যে ডিস্কটি বিভাজন করা হয়। এছাড়াও একাধিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিস্কের বিভাজন অবশ্যম্ভাবী। কেননা একই ডিস্ক থেকে দু’ধরণের অপারিটিং সিস্টেম পরিচালিত হতে পারে না। সে জন্যে হার্ড ডিস্ককে ভাগ করে একটি অংশে ডস রেখে অন্য অংশে বিভিন্ন  ধরণের অপারেটিং সিস্টেম স্থাপন করে কম্পিউটার পরিচালনা করা যায়। হার্ড ডিস্কের উক্ত বিভাজন প্রক্রিয়াকে দুইটি নামে নামকরণ করা হয়: (1) Primary DOS Partition Ges (2) Extended DOS Partition

&  ফ্লপি ডিস্ক :
১.৪৪ মেগাবাইট ডাটা ধারণ ক্ষমতা সম্পূর্ণ একটি ম্যাগনেটিক ডিস্ক এবং সাইজ ৩.৫ ইঞ্চি; এটা অতি পাতলা এবং হালকা। এক সময় ছিল যখন ফ্লাপি ডিস্ক কম্পিউটারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হতো। এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা (তথ্য) আদান-প্রদান কাজে এবং সিস্টেম ডিস্ক (বুটএ্যাবল ডিস্ক) তৈরীর কাজে ফ্লপি ডিস্ক বেশী ব্যবহৃত হতো। তবে বর্তমানে এর প্রচলন খুব একটা বেশী দেখা যায়না বললেই চলে। কারণ বর্তমানে এর বিকল্প হিসাবে পেন ড্রাইভ, সিডি, ম্যাগনেটিক টেপ এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ফ্লপি ডিস্কের স্থানটি ব্যাপকভাবে দখল করে নিয়েছে।
&  কার্ড:
কার্ড কম্পিউটারের একটি হার্ডওয়্যার উপাদান। কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক্স সার্কিট বোর্ডে লাগানো হয়। এগুলিকে কার্ড বলে। যেমন: নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড, মডেম কার্ড, ইনপুট-আউটপুট কার্ড, গ্রফিক্স কার্ড (ভিজিএ) ইত্যাদি। নিম্নে  বিভিন্ন ধরনের কার্ডের চিত্র দেয়া হলো:-
&  সিডি:
সিডি কম্পিউটারের একটি হার্ডওয়্যার উপাদান। এর ব্যবহার হার্ডডিস্ক, ফ্লপিডিস্ক বা ম্যাগনেটিক ডিস্কের মত। তবে ফ্লাপি ডিস্ক অপেক্ষা অনেকটা মজবুত ও টিকসই। একটি সিডির ব্যাস সাধারণত ৪.৭৫ইঞ্চি এবং এতে তথ্য ধারণ ক্ষমতা ৬৫০ থেকে ৭০০ মেগাবাইট এবং উর্দ্ধে ১ গিগাবাইট (জিবি) পর্যন্ত হয়ে থাকে; ১ জিবি সিডি গুলো সাধারণত ডিভিডি হয়ে থাকে বা এগুলোকে ডিভিডি বলা হয়। সিডিতে যে কোন ধরনের ডেটা, অডিও ভিডিও গান গেইম ইত্যাদি রাইট (কপি) করে প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। সিডি দু’ধরনের হয়ে থাকে। যেমন শুধুমাত্র Writeble সিডি; যাতে কেবলমাত্র তথ্য রাইট করা যায় এবং অন্যটি হলো Rewriteable সিডি; যাতে পূর্বের তথ্য মুছে আবার নতুন করে তথ্য রাইট করা যায়। সিডি বা ডিভিডিতে হার্ডডিস্ক, পেন ডাইভ বা ফ্লপি ডিস্কের মত সরাসরি তথ্য রাইট বা সেভ করা যায় না, সিডি/ডিভিডি রাইটারের সাহায্যে করতে হয়।CD-ROM অর্থ Compact Disk Read Only Memory.
&  সিডিতে কিভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়?

সাধারণভাবে সিডিতে তথ্য সংরক্ষণ করা যায় না। লেজার রশ্মির সাহায্যে বিশেষ উপায়ে সিডিতে ডেটা সংরক্ষণ করা হয়। এজন্য সিডি রাইটার নামে এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। সিডি রাইটার দেখতে প্রায় সিডি ড্রাইভের মত সিডি রাইটার দ্বারা সিডি হতে তথ্য পড়াও যায়। সিডি গুলোতে একবার তথ্য লেখা হয়ে গেলে আর মুছা বা পরিবর্তন করা যায় না বলে একে Read only memory বলা হয়। তবে বর্তমানে বাজারে Re-Writeable CD পাওয়া যায়; যাতে কোন তথ্য একবার লিখার পরে পূণরায় মুছে আবার রাইট করা যা। এগুলোকে Re-Writeable Compact Disk বলা হয়।

&  সিডি রম ড্রাইভ :
যে যন্ত্রের সাহায্যে সিডি চালানো হয় তাকে সিডিরম ড্রাইভ বলে সিডিরম ড্রাভি লেজার বীম ব্যবহার করে সিডিতে সংরক্ষিত তথ্য Read করে। ব্যবহৃত লেজার বীম পিট ও ল্যান্ডে পড়লে বাইনারি সংখ্যা ০ এবং ১ প্রান্তির সংবাদ পাঠায়। ফলে সকল তথ্য Read করতে পারে। লেজার বীমের সাহায্যে ছিদ্র করে তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সিডিরম ড্রাইভ ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল উভয় ধরনের হয়ে থাকে। বাজারে বিভিন্ন গতি সম্পন্ন সিডিরম ড্রাইভ পাওয়া যায়।



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.